• মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ভাস্কর্য নিয়ে আওয়ামী লীগ ও ধর্মবাদীদের আস্ফালন 

উভয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করুন

ভাস্কর্য নিয়ে আওয়ামী লীগ ও ধর্মবাদীদের আস্ফালন 

উভয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করুন

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা শহরের ধোলাইপাড় মোড়ে আওয়ামী সরকার শেখ মুজিবের একটি ভাস্কর্য নির্মাণের ঘোষণার পর হেফাজতে ইসলাম, চরমোনাইসহ ইসলামপন্থী দাবীদার রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে। আওয়ামী লীগ সরাসরি মাঠে না নামলেও তাদের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা হম্বিতম্বি করেছে। হুমকি-পাল্টা হুমকির এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আহবানÑ ‘রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবহার করবেন না’। একই সাথে দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৬ ডিসেম্বরের বক্তব্য, ‘ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবেন না।’   

এরকম বেশ কিছু হম্বিতম্বির পর দুই পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসে। জনগণকে জানানো হয়নি তাদেরই কথিত রাজাকারদের সাথে আওয়ামী মন্ত্রী-নেতারা কী আলোচনা করেছে। আর ধর্মবাদীরাই বা ‘ইসলাম বিরোধী’ মূর্তি নির্মাণের বিষয়টিতে কী ফয়সালা করেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উভয় পক্ষই চুপচাপ।  ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলাম বিরোধী নাকি ইসলাম অনুসারী সেই ধর্মীয় বিতর্কে বিষয়টিকে নিয়ে গেছে সরকার ও আওয়ামী লীগ। কিন্তু মূল গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্ক তাহলো ধর্মীয় বিধান মত রাষ্ট্র চলবে কি চলবে না সেই বিষয়টি। সরকার ও আওয়ামী লীগ খুবই চতুরতার সাথে এই মূল বিষয়টিকে এড়িয়ে যাচ্ছে। একটি আধুনিক রাষ্ট্রের বিধিবিধান কোনোক্রমেই ধর্মীয় বিধান দ্বারা চলতে পারে না। সেটা করলে আপনি নারীর বিয়ের বয়স ১৮ করতে পারেন না। প্রাণি বা মানুষের ছবি তুলতে পারেন না। গান-বাজনা করতে পারবেন না, বিজ্ঞান শেখাতে পারবেন না, লক্ষ লক্ষ নারীদের গার্মেন্ট চালাতে পারবেন না, চলমান নাটক-সিনেমা করতে পারবেন না। শফি মওলানা সে কারণেই বলেছিল, নারীদের ফাইভের বেশি লেখাপড়াও করাতে পারবেন না।   

ভাস্কর্য একটি শিল্প মাধ্যম। তাকে বাদ দেয়ার দাবি তো এক মধ্যযুগীয় দাবি। একে প্রতিরোধ না করে, মূল সমস্যাটিকে তুলে না ধরে আওয়ামী সরকার বেছে নিয়েছে ধর্মের ব্যাখ্যার পথ, ধর্মবাদীদের সাথে আপসের পথ। আর যা-ই হোক, তারা তো তাকে বিনা কারণে ‘কওমী জননী’ উপাধি দেয়নি!  আওয়ামী লীগ এভাবে ধর্মবাদকে জিইয়ে রেখেছে, নিজেরাও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করেছে এবং করছে। হেফাজতকে কাছে টানার জন্য তাদের আপত্তিতে বেশ কিছু লেখা পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দিয়েছে। ইতিপূর্বে ভাস্কর্যের বিষয়ে হাসিনা সরকার সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত গ্রীক দেবীর ভাস্কর্য সরিয়ে নিয়েছে। ভোটের রাজনীতিতে ইসলাম ধর্ম অনুসারী দাবীদার আওয়ামী লীগ এতদিন ধর্মবাদীদের লালন-পালন করেছে। এখন দ্বন্দ্বটা শুরু হয়েছে তাদের নেতার ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে। আওয়ামী লীগ এখন উভয় সংকটে পড়েছে। তাদের ’৭১ এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার- দুটোই দরকার। তারা এমনকি তাদের সংবিধানেও একদিকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র কথা রেখেছে, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ও রেখেছে। তারা কখনোই রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করেনি। ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে “ধর্মনিরপেক্ষতা”র নামে চারটি প্রধান ধর্মকে তাদের রাষ্ট্র ও রাজনীতির সাথে যুক্ত করেছে। আর নিজেদের সাচ্চা মুসলিম প্রমাণের জন্য প্রতিটি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনায় জনগণের কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। হাসিনা সরকার বিগত ১২ বছরে দেশে মাদ্রাসার সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের জন্য ধর্মবাদীদের কাছে নতিস্বীকারও করেছে বারংবার।  

আওয়ামী লীগের এখনকার কৌশল হচ্ছে ‘মুক্তিযুদ্ধর চেতনা’র বুলি আউড়িয়ে ধর্ম অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণ করে শেখ মুজিব এবং আওয়ামীপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষে তারা তাদের রাজনীতির প্রধান প্রতীক শেখ মুজিবকে সামনে এনে ভাস্কর্য নির্মাণসহ সিনেমা-নাটক-বই প্রকাশনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে ধর্ম অনুসারী দলগুলো চায় ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে। এজন্য তারা আওয়ামী লীগসহ যার পিঠে যখন সুবিধা তার পিঠেই সওয়ার হচ্ছে । ‘মুজিব মিনারে’র প্রস্তাব তারই অংশ।   

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং ধর্ম ভিত্তিক দাবীদার রাজনৈতিক দলগুলো- এই দুইয়ের মধ্যকার দ্বন্দ্বটি হলো দুই ধরনের ফ্যাসিবাদের দ্ব›দ্ব। একটি হলো আওয়ামী উগ্র বাঙালী জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদ। অন্যটি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ। তাই ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে বিরোধিতার নামে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে সমর্থন করা যায় না।  সুতরং ভাস্কর্য ইস্যুতে সকল প্রগতিশীল ও বিপ্লবীদের করণীয় হচ্ছে আওয়ামী ও ধর্মীয়- এই উভয়  ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা।  

ভাস্কর্য নিয়ে আওয়ামী লীগ ও ধর্মবাদীদের আস্ফালন 

উভয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করুন

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা শহরের ধোলাইপাড় মোড়ে আওয়ামী সরকার শেখ মুজিবের একটি ভাস্কর্য নির্মাণের ঘোষণার পর হেফাজতে ইসলাম, চরমোনাইসহ ইসলামপন্থী দাবীদার রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে। আওয়ামী লীগ সরাসরি মাঠে না নামলেও তাদের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা হম্বিতম্বি করেছে। হুমকি-পাল্টা হুমকির এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আহবানÑ ‘রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবহার করবেন না’। একই সাথে দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৬ ডিসেম্বরের বক্তব্য, ‘ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবেন না।’   

এরকম বেশ কিছু হম্বিতম্বির পর দুই পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসে। জনগণকে জানানো হয়নি তাদেরই কথিত রাজাকারদের সাথে আওয়ামী মন্ত্রী-নেতারা কী আলোচনা করেছে। আর ধর্মবাদীরাই বা ‘ইসলাম বিরোধী’ মূর্তি নির্মাণের বিষয়টিতে কী ফয়সালা করেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উভয় পক্ষই চুপচাপ।  ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলাম বিরোধী নাকি ইসলাম অনুসারী সেই ধর্মীয় বিতর্কে বিষয়টিকে নিয়ে গেছে সরকার ও আওয়ামী লীগ। কিন্তু মূল গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্ক তাহলো ধর্মীয় বিধান মত রাষ্ট্র চলবে কি চলবে না সেই বিষয়টি। সরকার ও আওয়ামী লীগ খুবই চতুরতার সাথে এই মূল বিষয়টিকে এড়িয়ে যাচ্ছে। একটি আধুনিক রাষ্ট্রের বিধিবিধান কোনোক্রমেই ধর্মীয় বিধান দ্বারা চলতে পারে না। সেটা করলে আপনি নারীর বিয়ের বয়স ১৮ করতে পারেন না। প্রাণি বা মানুষের ছবি তুলতে পারেন না। গান-বাজনা করতে পারবেন না, বিজ্ঞান শেখাতে পারবেন না, লক্ষ লক্ষ নারীদের গার্মেন্ট চালাতে পারবেন না, চলমান নাটক-সিনেমা করতে পারবেন না। শফি মওলানা সে কারণেই বলেছিল, নারীদের ফাইভের বেশি লেখাপড়াও করাতে পারবেন না।   

ভাস্কর্য একটি শিল্প মাধ্যম। তাকে বাদ দেয়ার দাবি তো এক মধ্যযুগীয় দাবি। একে প্রতিরোধ না করে, মূল সমস্যাটিকে তুলে না ধরে আওয়ামী সরকার বেছে নিয়েছে ধর্মের ব্যাখ্যার পথ, ধর্মবাদীদের সাথে আপসের পথ। আর যা-ই হোক, তারা তো তাকে বিনা কারণে ‘কওমী জননী’ উপাধি দেয়নি!  আওয়ামী লীগ এভাবে ধর্মবাদকে জিইয়ে রেখেছে, নিজেরাও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করেছে এবং করছে। হেফাজতকে কাছে টানার জন্য তাদের আপত্তিতে বেশ কিছু লেখা পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দিয়েছে। ইতিপূর্বে ভাস্কর্যের বিষয়ে হাসিনা সরকার সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত গ্রীক দেবীর ভাস্কর্য সরিয়ে নিয়েছে। ভোটের রাজনীতিতে ইসলাম ধর্ম অনুসারী দাবীদার আওয়ামী লীগ এতদিন ধর্মবাদীদের লালন-পালন করেছে। এখন দ্বন্দ্বটা শুরু হয়েছে তাদের নেতার ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে। আওয়ামী লীগ এখন উভয় সংকটে পড়েছে। তাদের ’৭১ এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার- দুটোই দরকার। তারা এমনকি তাদের সংবিধানেও একদিকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র কথা রেখেছে, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ও রেখেছে। তারা কখনোই রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করেনি। ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে “ধর্মনিরপেক্ষতা”র নামে চারটি প্রধান ধর্মকে তাদের রাষ্ট্র ও রাজনীতির সাথে যুক্ত করেছে। আর নিজেদের সাচ্চা মুসলিম প্রমাণের জন্য প্রতিটি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনায় জনগণের কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। হাসিনা সরকার বিগত ১২ বছরে দেশে মাদ্রাসার সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের জন্য ধর্মবাদীদের কাছে নতিস্বীকারও করেছে বারংবার।  

আওয়ামী লীগের এখনকার কৌশল হচ্ছে ‘মুক্তিযুদ্ধর চেতনা’র বুলি আউড়িয়ে ধর্ম অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণ করে শেখ মুজিব এবং আওয়ামীপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষে তারা তাদের রাজনীতির প্রধান প্রতীক শেখ মুজিবকে সামনে এনে ভাস্কর্য নির্মাণসহ সিনেমা-নাটক-বই প্রকাশনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে ধর্ম অনুসারী দলগুলো চায় ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে। এজন্য তারা আওয়ামী লীগসহ যার পিঠে যখন সুবিধা তার পিঠেই সওয়ার হচ্ছে । ‘মুজিব মিনারে’র প্রস্তাব তারই অংশ।   

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং ধর্ম ভিত্তিক দাবীদার রাজনৈতিক দলগুলো- এই দুইয়ের মধ্যকার দ্বন্দ্বটি হলো দুই ধরনের ফ্যাসিবাদের দ্ব›দ্ব। একটি হলো আওয়ামী উগ্র বাঙালী জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদ। অন্যটি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ। তাই ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে বিরোধিতার নামে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে সমর্থন করা যায় না।  সুতরং ভাস্কর্য ইস্যুতে সকল প্রগতিশীল ও বিপ্লবীদের করণীয় হচ্ছে আওয়ামী ও ধর্মীয়- এই উভয়  ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা।  

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র